উনিশ শতকে বাংলায় ইউরোপের মতোই নবজাগরণ হয়ে ছিল কি না, তা নিয়ে ঐতিহাসিক বিতর্ক চলতেই থাকবে। সেই নবজাগরণের প্রধান পথিকৃৎরা কতটা ‘প্রগতিবাদী’ বা ‘কৃষকদরদি’ ছিলেন, তা নিয়ে ঝোড়ো বিপ্লবী সমালোচনাও চলবে।
—শিবাজীপ্রতিম বসু
পুরনো লব্জে বললে, পিতামাতার প্রতি ঋণের মতোই, আধুনিক বাঙালির বিদ্যাসাগর মশাইয়ের প্রতি ঋণের হাত থেকে মুক্তি নেই। উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে সাম্প্রতিক সময় ইস্তক বাঙালি দু’টি গর্বের কথা এই অধোগতির চূড়ান্ত মুহূর্তেও ভুলতে পারেনি: আধুনিক শিক্ষা ও সমাজসংস্কারে বাঙালির গৌরবময় নেতৃত্বের যশ-কথা। দু’টি ক্ষেত্রেই বিদ্যাসাগরী ঋণ অপরিমেয় ও মৌলিক। এই পরিসরে শিক্ষা প্রসঙ্গে কয়েকটি কথা বলে নেওয়া জরুরি, যা থেকে তাঁর এই দ্বিমুখী সংস্কার ভাবনারও খানিকটা হদিস পাব, যা না পেলে জন্মের দু’শো বছর পরেও মানুষটা আমাদের কাছে স্রেফ ‘অধরা’ই (‘এলিউসিভ’) হয়ে থাকবেন।
